পবিত্র মাহে রমযান মুসলমানদের জন্য আত্মসংযম, ধৈর্য, ইবাদত ও তাকওয়া অর্জনের এক বিশেষ মাস। এই মাসে প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে সেহরি গ্রহণ এবং সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা রোজার মৌলিক শর্ত।

তাই সঠিক ও নির্ভুল সময়সূচি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জেলা ভিত্তিক সময়ের সামান্য পার্থক্য থাকায় স্থানীয় সময় জানা জরুরি হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে প্রতি বছর ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী সেহরি ও ইফতারের অফিসিয়াল সময়সূচি প্রকাশ করে। ২০২৬ সালের (১৪৪৭ হিজরি) পবিত্র রমযানের জন্য প্রকাশিত সরকারি পিডিএফ থেকে নেত্রকোনা জেলার নির্ধারিত সময় সংগ্রহ করে এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে।

নিচে নেত্রকোনা জেলার পূর্ণ ৩০ দিনের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি বাংলা সংখ্যায় টেবিল আকারে দেওয়া হলো, যাতে পাঠক সহজেই প্রতিদিনের সময় জেনে নিতে পারেন।

নেত্রকোনা জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬

রোজা তারিখ (২০২৬) সেহরির শেষ সময় ফজরের আযান ইফতারের সময়
১৯ ফেব্রুয়ারি ৫:০৮ ৫:১২ ৫:৫৪
২০ ফেব্রুয়ারি ৫:০৮ ৫:১১ ৫:৫৫
২১ ফেব্রুয়ারি ৫:০৭ ৫:১১ ৫:৫৬
২২ ফেব্রুয়ারি ৫:০৬ ৫:১০ ৫:৫৬
২৩ ফেব্রুয়ারি ৫:০৫ ৫:০৯ ৫:৫৭
২৪ ফেব্রুয়ারি ৫:০৫ ৫:০৮ ৫:৫৭
২৫ ফেব্রুয়ারি ৫:০৪ ৫:০৮ ৫:৫৮
২৬ ফেব্রুয়ারি ৫:০৩ ৫:০৭ ৫:৫৮
২৭ ফেব্রুয়ারি ৫:০২ ৫:০৬ ৫:৫৯
১০ ২৮ ফেব্রুয়ারি ৫:০১ ৫:০৫ ৫:৫৯
১১ ১ মার্চ ৫:০১ ৫:০৪ ৬:০০
১২ ২ মার্চ ৫:০০ ৫:০৩ ৬:০০
১৩ ৩ মার্চ ৪:৫৯ ৫:০২ ৬:০১
১৪ ৪ মার্চ ৪:৫৮ ৫:০১ ৬:০১
১৫ ৫ মার্চ ৪:৫৭ ৫:০০ ৬:০২
১৬ ৬ মার্চ ৪:৫৬ ৪:৫৯ ৬:০২
১৭ ৭ মার্চ ৪:৫৫ ৪:৫৮ ৬:০৩
১৮ ৮ মার্চ ৪:৫৪ ৪:৫৭ ৬:০৩
১৯ ৯ মার্চ ৪:৫৩ ৪:৫৬ ৬:০৪
২০ ১০ মার্চ ৪:৫২ ৪:৫৫ ৬:০৪
২১ ১১ মার্চ ৪:৫১ ৪:৫৪ ৬:০৫
২২ ১২ মার্চ ৪:৫০ ৪:৫৩ ৬:০৫
২৩ ১৩ মার্চ ৪:৪৯ ৪:৫২ ৬:০৬
২৪ ১৪ মার্চ ৪:৪৮ ৪:৫১ ৬:০৬
২৫ ১৫ মার্চ ৪:৪৭ ৪:৫০ ৬:০৭
২৬ ১৬ মার্চ ৪:৪৬ ৪:৪৯ ৬:০৭
২৭ ১৭ মার্চ ৪:৪৫ ৪:৪৮ ৬:০৮
২৮ ১৮ মার্চ ৪:৪৪ ৪:৪৭ ৬:০৮
২৯ ১৯ মার্চ ৪:৪৩ ৪:৪৬ ৬:০৯
৩০ ২০ মার্চ ৪:৪২ ৪:৪৫ ৬:০৯

সময় নির্ধারণের ভিত্তি

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূর্যের অবস্থান, অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ এবং জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী প্রতিটি জেলার জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করে। সেহরির শেষ সময় মূলত ফজরের সূচনা নির্দেশ করে। সতর্কতার জন্য অনেকেই কয়েক মিনিট আগে সেহরি শেষ করেন।

নেত্রকোনার ভৌগোলিক প্রভাব

নেত্রকোনা জেলা হাওর ও সমতল ভূমির জন্য পরিচিত। উন্মুক্ত দিগন্তের কারণে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তবে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ১–২ মিনিট সময়ের পার্থক্য হতে পারে।

রমযানে সময় মেনে চলার গুরুত্ব

রমযান শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দেয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সেহরি ও ইফতার করলে রোজা সঠিকভাবে আদায় করা সহজ হয়। সরকারি সময়সূচি অনুসরণ করলে বিভ্রান্তি কমে যায়।

প্রশ্ন এবং উত্তর সমূহ

১. নেত্রকোনা জেলার সময়সূচি কি সরকারি?

হ্যাঁ, এটি বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৬ সালের অফিসিয়াল সময়সূচির ভিত্তিতে প্রস্তুত।

২. সেহরির শেষ সময় ও ফজরের আযান আলাদা কেন?

সেহরির শেষ সময় ফজরের সূচনাকাল নির্দেশ করে। আযান কয়েক মিনিট পরে দেওয়া হয় যাতে মুসল্লিরা প্রস্তুতি নিতে পারেন।

৩. ইফতারের সময় কীভাবে নির্ধারিত হয়?

সূর্য সম্পূর্ণ অস্ত যাওয়ার সুনির্দিষ্ট সময়ের ওপর ভিত্তি করে ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়। এটি বৈজ্ঞানিকভাবে গণনা করা হয়।

৪. পুরো জেলায় কি একই সময় প্রযোজ্য?

একটি গড় সময় নির্ধারণ করা হয়। তবে ভৌগোলিক কারণে সামান্য তারতম্য হতে পারে।

৫. মোবাইল অ্যাপের সময় ভিন্ন হলে কী করব?

সরকারি সময়সূচি এবং স্থানীয় মসজিদের ঘোষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

৬. রমযান শুরু কি নির্দিষ্ট?

চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রমযান শুরু হয়। তাই একদিন কম-বেশি হতে পারে।

৭. সেহরি কি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত খাওয়া যাবে?

নির্ধারিত সময় পর্যন্ত খাওয়া বৈধ। তবে সতর্কতার জন্য আগে শেষ করা উত্তম।

৮. ইফতারে দেরি করা কি ঠিক?

সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করা সুন্নত। অযথা বিলম্ব করা উচিত নয়।

৯. কেন প্রতিদিন সময় কয়েক মিনিট পরিবর্তিত হয়?

সূর্যের অবস্থান প্রতিদিন সামান্য পরিবর্তিত হয়। তাই সেহরি ও ইফতারের সময়ও পরিবর্তিত হয়।

১০. সময়সূচি কি প্রতিবছর একই থাকে?

না, হিজরি বর্ষ চন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় প্রতিবছর সময়সূচিতে পরিবর্তন আসে।

শেষ কথা

নেত্রকোনা জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে।

রমযানের প্রতিটি দিন সঠিক সময় মেনে চলা রোজার পূর্ণতা অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই পবিত্র মাসের ফজিলত অর্জনের তাওফিক দান করুন।